খনিজ সম্পদ পাওয়া গেলে মালিকানা কার

প্রশ্ন: মাটির নিচে খনিজ সম্পদ পাওয়া গেলে মালিকানা কার?

উত্তর: খনিজ সম্পদে যদি এমন কোনো চিহ্ন থাকে যা দ্বারা তা ইসলামী জামানার বা মুসলমানের সম্পদ বোঝায় (যেমন কালিমা, আল্লাহু ইত্যাদি ছাপা থাকা কিংবা মুসলিম শাসকের ছবি থাকা অথবা ইসলামী যুগের সন লেখা থাকা)। তাহলে তার উপর লুকতার (হারানো মাল) হুকুম প্রয়োগ হবে। অর্থাৎ পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘোষণা করবে। মালিক পাওয়া গেলে প্রমাণ সাপেক্ষে তার হাতে সোপর্দ করবে। অন্যথায় মালিকের পক্ষ থেকে ফকির মিসকিনদের মধ্যে সদাকা করে দিবে। নিজে দরিদ্র হয়ে থাকলে নিজেও রাখতে পারবে। কিন্তু মালিক এসে গেলে তাকে তা ফেরত দিতে হবে।

আর যদি খনিজ সম্পদে কুফরের চিহ্ন থাকে বা প্রবল ধারণা হয় যে পূর্বেকার যুগের কোন কাফেরের সম্পদ হবে অথবা আলামত দ্বারা কোন কিছুই না বুঝা যায় তাহলে গনিমতের হুকুম আরোপ হবে। অর্থাৎ ৫ ভাগের ১ ভাগ বায়তুল মালে দিয়ে দিবে। বাইতুল মালে দিতে না পারলে মাদ্রাসায়ও দিতে পারবে। আর বাকি চার ভাগ যে খুঁজে পেয়েছে তার।

উল্লেখ্য, কিতাবাদীতে মালিকানাধীন জমি ও মালিকানাবিহীন জমি (যেমন মরুভূমি, বন, নদি, সমুদ্র ইত্যাদি) উভয় অবস্থায় খুমুসের (পাঁচ ভাগের এক ভাগ) কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শামী র. আরেক প্রকার জমির কথা বলেছেন, অনির্দিষ্ট মালিকানাধীন জমি (এমন জমি যাকে সরকার মালিকানায় নিয়ে আবাদ করেছে)। এ ব্যাপারে তিনি লিখেছেন…
وَأَمَّا الثَّانِي وَهُوَ الْمَمْلُوكَةُ لِغَيْرِ مُعَيَّنٍ فَلَمْ أَرَ حُكْمَهُ. وَالَّذِي يَظْهَرُ لِي أَنَّ الْكُلَّ لِبَيْتِ الْمَالِ
…অনির্দিষ্ট মালিকানাধীন জমির বিধান আমি কোথাও পাইনি। আমার কাছে যেটা উত্তম মনে হয়, তা হলো বাইতুল মালে জমা করে দেওয়া।

অতএব যে জমি সরকার মালিকানায় নিয়ে আবাদ করেছে সেখানে দ্বিতীয় ধরনের খনিজ সম্পদ পাওয়া গেলে শামী রহিমাহুল্লাহর মতে তার পূর্ণ মালিকানা সরকারের। আল্লামা তাকী উসমানী হা. এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এটি মালেকি মাযহাবেরও মত। এক্ষেত্রে সরকার চাইলে যে খুঁজে পেয়েছে তাকে কিছু পুরস্কার দিতে পারে।

সূত্র: ফাতাওয়ায়ে উসমানী ৪/২০৭, বাদাঈ ২/৬৫), ফাতাওয়ায়ে শামী ২/৩১৯

উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (ফিকহে হানাফী অনুসারে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *