প্রশ্ন : শহরের ব্যাংকগুলোতে নামাজের জন্য ইমাম নিযুক্ত করা হয়, যেখানে নামাজ আদায়কারী প্রায় সকলেই ব্যাংকার, এমতাবস্থায় সেখানে ইমামতি করা ও বেতন গ্রহণ করা জায়েয হবে কি?
উত্তর : ব্যাংকের উপার্জিত টাকার মধ্যে সাধারণত হালাল-হারামের মিশ্রণ থাকে এবং সাধারণভাবে হালালের পরিমাণ বেশি থাকে। অবশ্য কোন ব্যাংকের উপার্জিত অর্থে যদি হারামের পরিমাণ বেশি থাকে এবং ইমামের বেতন ব্যাংক থেকে দেওয়া হয় তাহলে সেখানে ইমামতি করা তো বৈধ হবে কিন্তু বেতন নেওয়া বৈধ হবে না। আর যদি হারামের পরিমাণ কম থাকে তাহলে বেতন নেওয়া বৈধ হবে।
কিন্তু যদি ব্যাংক থেকে বেতন না দেওয়া হয় বরং মুসল্লীরা নিজেদের উপার্জিত সম্পদ থেকে দেয় তাহলে বেতন নেয়া বৈধ হবে না, অবশ্য মুসল্লীরা যদি হালাল টাকা থেকে বেতন দেয়ার ব্যবস্থা করে তাহলে বৈধ হবে।
শুধু ব্যাংক নয়, যদি কেউ মসজিদে ইমামতি করে এবং কোন মুসল্লী সম্পর্কে জানা যায় যে, তার উপার্জিত অধিকাংশ সম্পদ হারাম তাহলে তার থেকে বেতন নেওয়া বৈধ হবে না। এমনিভাবে যে কোন চাকরিতে যদি হারাম সম্পদ থেকে বেতন দেওয়া হয় তাহলে সে চাকরি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছেড়ে দিতে হবে। চাকরি ছেড়ে দিলে অর্থ সংকটে পড়ে গুনাহর কাজে পা বাড়ানোর আশঙ্কা থাকলে যতদিন অন্য চাকরির ব্যবস্থা না হয় ততোদিন উক্ত চাকরি অব্যাহত রাখবে এবং ইস্তেগফার করতে থাকবে।
সূত্র: ফাতাওয়া শামি, ৫/৯৮
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (হানাফি ফিকহ অনুসারে)