প্রশ্ন অন্ধ ব্যক্তির পেছনে নামাজের এক্তেদা করা জায়েয হবে কি?
উত্তর: অন্ধ ব্যক্তির পেছনে নামাজ আদায় করা বৈধ। শর্ত হলো, উক্ত ব্যক্তি পাক পবিত্রতা রক্ষায় সমর্থ হতে হবে এবং ইমামতির শর্ত সমূহে উত্তীর্ণ হতে হবে। রাসূল সা. যখন মদিনার বাইরে যেতেন তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম অথবা উতবান ইবনে মালিক রা. কে নিজের স্থলাভিষিক্ত করে যেতেন অর্থাৎ মসজিদে নববীর ইমাম বানিয়ে যেতেন। এই উভয় সাহাবী ছিলেন অন্ধ। তবে যেহেতু অন্ধ ব্যক্তিদের জন্য পবিত্রতা রক্ষা করা একটু কঠিন তাই সুস্থ ব্যক্তি পাওয়া গেলে তাদের ইমাম না বানালে ভালো।
অনেক সময় অন্ধ ব্যক্তির দরিদ্রতার প্রতি লক্ষ্য করে তাদেরকে ইমাম বানানো হয়। যদি তারা পবিত্রতার ব্যাপারে সচেতন হয় ও ইমামতির যোগ্য হয় তাহলে তো সমস্যা নেই। তবে যদি এর বিপরীত হয় তাহলে তাদের ইমাম না বানিয়ে বরং এমনিতেই তার জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা উচিত।
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম
এই লেখক ব্যক্তিগত মন্তব্য হলো, ফাতাওয়ার কিতাবে যে অন্ধদের ইমামতিকে মাকরূহ বলা হয়েছে। তার অন্যতম একটি কারণ ছিল – সে যুগে ইমামতির ক্ষেত্রে সূর্যের প্রতি নির্ভরতা। কিন্তু বর্তমান যুগে যেহেতু মানুষ ঘড়ির প্রতি নির্ভরশীল তাই সেই সমস্যাটা আর বাকি নেই।।
এখন শুধু পবিত্রতার বিষয়টা বাকি। সুতরাং একই যোগ্যতার দুজন ব্যক্তি থাকলে – যার মধ্যে একজন অন্ধ, একজন সুস্থ – সুস্থ ব্যক্তি ইমামাতের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে। আর অন্ধকে ইমাম বানানো মাকরূহে তানজিহি হবে। আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসকে কারাহাতের বিপক্ষে দাঁড় করানো যায় না। কেননা আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইমামতি সাময়িক ছিল। যখন মদিনায় রাসুল সা. এবং বড় বড় সাহাবীগণ অনুপস্থিত থাকতেন। কেননা জিহাদের সময় সাধারণত মুনাফিক এবং অক্ষম (যেমন অন্ধ) ব্যক্তিরাই মদিনায় থাকতেন।