প্রশ্ন: মসজিদের লাইট বন্ধ করে অন্ধকারে নামাজ পড়া কি জায়েজ হবে?
উত্তর : আলো ও অন্ধকার উভয় অবস্থায় নামাজ পড়া জায়েজ। হুযুর সা. ও সাহাবাগণ অন্ধকারে নামাজ পড়েছেন বলে বর্ণিত আছে।
সহীহ বুখারীতে এসেছে
عن عائشة زوج النبي صلی اللہ علیه وسلم أنها قالت: کنت أنام بین یدي رسول اللہ صلی اللہ علیه و سلم، و رجلاي في قبلته، فإذا سجد غمزني فقبضتُ رجليَّ، فإذا قام بسطتُھا، قالت: والبیوت یومئذ لیس فیها مصابیح
“আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূল সা. এর সম্মুখে নিদ্রারত ছিলাম এবং আমার পা তার কিবলার দিকে ছিল। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন আমাকে খোঁচা দিতেন, আর আমি পা সরিয়ে নিতাম। তিনি দাঁড়িয়ে গেলে পুনরায় পা দুটো প্রসারিত করে দিতাম। আয়েশা (রা.) বলেন, তখন ঘরে কোনো বাতি ছিল না।” (বুখারী, ১/৭৩)
মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় এসেছে
عن عبد الله بن سويد الأنصاري عن عمته أم حميد امرأة أبي حميد الساعدي أنها جاءت النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله إني أحب الصلاة معك! قال: قد علمت أنك تحبين الصلاة معي وصلاتك في بيتك خير لك من صلاتك في حجرتك، وصلاتك في حجرتك خير من صلاتك في دارك، وصلاتك في دارك خير لك من صلاتك في مسجد قومك، وصلاتك في مسجد قومك خير لك من صلاتك في مسجدي، قال: فأمرت فبني لها مسجد في أقصى شيء من بيتها وأظلمه فكانت تصلي فيه حتى لقيت الله عز وجل
“উম্মে হুমাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার সাথে নামাজ পড়তে আগ্রহী । তিনি বললেন আমি জানি তুমি আমার সাথে নামাজ পড়তে আগ্রহী কিন্তু তোমার জন্য ছোট্ট কুঠুরিতে নামাজ পড়া উত্তম তোমার ঘরে নামাজ পড়ার চেয়ে। এবং ঘরে নামাজ পড়া উত্তম তোমার বাড়িতে নামাজ পড়ার চেয়ে। এবং বাড়িতে নামাজ পড়া উত্তম তোমার মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়ার চেয়ে। এবং মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়া উত্তম আমার মসজিদে নামাজ পড়ার চেয়ে। অতঃপর উম্মে হুমাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহা ঘরের শেষপ্রান্তে নিজের জন্য একটি কুঠুরি নির্মাণের নির্দেশ দিলেন যা ছিলো সবচেয়ে অন্ধকার। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানেই নামাজ পড়তে থাকলেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ২৬৫৫০)
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (হানাফি ফিকহ অনুসারে)