কল রেকর্ড করা, ফাঁস করা এবং ফাঁসকৃত রেকর্ড শোনা যাবে কিনা

সাধারণ অবস্থায় মানুষের কল রেকর্ড করা, ফাঁস করা এবং ফাঁসকৃত রেকর্ড শোনা – প্রতিটিই আলাদাভাবে ভদ্রতা-সভ্যতা বিবর্জিত কাজ, এবং শারঈ দৃষ্টিতে নাজায়েজ।

কেননা তা গোয়েনাদাগিরি (যা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া নাজায়েজ) এবং আমানতের খেয়ানত।

হাদিসে এসেছে…
عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَزْمٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا يُجَالِسُ الْمُتَجَالِسَونَ بِأَمَانَةِ اللَّهِ، فَلَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يُفْشِيَ عَنْ صَاحِبِهِ مَا يَكْرَهُ»

আবু বকর র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই মানুষ একে অপরের সাথে বৈঠক করে আল্লাহর দেওয়া আমানতের ভিত্তিতে। অতএব কারো জন্য তার সঙ্গীর কোন বিষয় প্রকাশ করা জায়েজ হবে না, যদি সেটা সে অপছন্দ করে। (শুয়াবুল ঈমান লিল বাইহাকি, ১১১৯১, মুরসালে জাইয়িদ)

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ مَرْفُوعًا «إذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ بِالْحَدِيثِ ثُمَّ الْتَفَتَ فَإِذًا هِيَ أَمَانَةٌ
জাবের বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তি কথা বলার পর আশেপাশে তাকালে / চলে গেলে তার উক্ত কথা (শ্রবণকারীর জন্য) আমানাত গণ্য হয়। (তিরমিজি ১৯৫৯, হাসান)

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ صَعِدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَنَادَى بِصَوْتٍ رَفِيعٍ فَقَالَ ‏ “‏ يَا مَعْشَرَ مَنْ قَدْ أَسْلَمَ بِلِسَانِهِ وَلَمْ يُفْضِ الإِيمَانُ إِلَى قَلْبِهِ لاَ تُؤْذُوا الْمُسْلِمِينَ وَلاَ تُعَيِّرُوهُمْ وَلاَ تَتَّبِعُوا عَوْرَاتِهِمْ فَإِنَّهُ مَنْ تَتَبَّعَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ تَتَبَّعَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ وَمَنْ تَتَبَّعَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ يَفْضَحْهُ وَلَوْ فِي جَوْفِ رَحْلِهِ

ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে উচ্চস্বরে বললেনঃ হে ঐ জামাআত, যারা মুখে ইসলাম কবুল করেছ কিন্তু অন্তরে এখনো ঈমান মাজবুত হয়নি। তোমরা মুসলিমদের কষ্ট দিবে না, তাদের লজ্জা দিবে না এবং তাদের গোপন দোষ অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হবে না। কেননা, যে লোক তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ অনুসন্ধানে নিয়োজিত হবে আল্লাহ তা’আলা তার গোপন দোষ প্রকাশ করে দিবেন। আর যে ব্যক্তির দোষ আল্লাহ তা’আলা প্রকাশ করে দিবেন তাকে অপমান করে ছাড়বেন, সে তার উটের হাওদার ভিতরে অবস্থান করে থাকলেও। (তিরমিজি ২০৩২, হাসান)

কল সংক্রান্ত মাসাইল এসেছে দুই ব্যক্তির মধ্যকার কথাবার্তা ফাঁস করা এবং তা চুপিসারে শোনার মাসাইলের ভিত্তিতে। এগুলো সাধারণ অবস্থায় নাজায়েজ। তবে প্রয়োজনের ভিত্তিতে শর্তসাপেক্ষে জায়েয।

অতএব, কেউ যদি মনে করে, কারো কোনো কলের রেকর্ডিং রাখা জরুরি। অন্যথায় কোন ব্যক্তি বা জাতির নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে অথবা প্রতারিত হবে। এবং যার বা যাদের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদেরকে বিষয়টা জানালে তারা সন্দেহ করবে অথবা অবিশ্বাস করবে। সে অবস্থায় রেকর্ডিং রাখতে পারে।

যার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা শুধু তাকেই রেকর্ড শোনাবে। যদি সমাজ সংক্রান্ত হয় তাহলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে শোনাবে। কিন্তু যদি মনে হয়, কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার শক্তি রাখে না অথবা ইচ্ছা রাখে না, তাহলে জনগণগে বিষয়টি জানাতে পারে। অর্থাৎ কলরেকর্ড ফাঁস করতে পারে।

যদি এমন হয়, সেই কলরেকর্ড জনগণকে না শোনালেও কোন ক্ষতি হতো না। বরং কলরেকর্ডের কারণে একজন মানুষ শুধু শুধু অপদস্থ হয়েছে। তাহলে তা নাজায়েয।

এছাড়া যদি কোন ব্যক্তির সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে এই বিশ্বাস থাকে যে তার কল রেকর্ড করলে কিছু মনে করবে না। অন্যকে শোনালেও কিছু মনে করবে না। সেক্ষেত্রে তা করতে পারে। অবশ্য ধারণার ভিত্তিতে এটা করা যাবে না। সবচেয়ে ভালো হলো, অনুমতি নিয়ে নেওয়া।

একইভাবে যে ধরনের কল রেকর্ড ফাঁস করা নাজায়েয, তা সাধারণ অবস্থায় শোনাও নাজায়েজ।

হাদিসে এসেছে…
وَمَنِ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ وَهُمْ يَفِرُّونَ بِهِ مِنْهُ صُبَّ فِي أُذُنِهِ الآنُكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

যে লোক কোন দল বা সম্প্রদায়ের গোপন কথা অগোচরে কান পেতে শুনে, অথচ তারা বিষয়টি তার কাছ থেকে গোপন রাখতে চায় তার কানে কিয়ামত দিবসে উত্তপ্ত সীসা ঢেলে দেওয়া হবে। (বুখারী ১৭৫১)

هذا مني وإنما العلم عند الله

লিখন: উমর ফারূক তাসলিম (ফিকহে হানাফী অনুসারে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *