প্রশ্ন: আমি একজনকে দেখেছি অজুর অঙ্গগুলো তিনবারের চেয়ে বেশি করে ধুতে। এ বিষয়ে শরীয়ত কী বলে?
উত্তর: অজুর অঙ্গগুলো তিনবার ধোয়া সুন্নত। তবে যদি মাঝেমধ্যে সন্দেহ দূর করার জন্য ৩ বারের বেশি ধোয় -যেমন কিছু অংশ ধোয়া বাকি রয়ে গেল কিনা- তাহলে জায়েয।
কেউ যদি এই বিশ্বাসে তিনবারের বেশ ধোয় যে, যত ধুবে তত বেশি সওয়াব, তাহলে বিদআত।
একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজু করে দেখালেন …
ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلَاثًا ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ ” هَكَذَا الْوُضُوءُ فَمَنْ زَادَ عَلَى هَذَا أَوْ نَقَصَ فَقَدْ أَسَاءَ وَظَلَمَ
সবশেষে উভয় পা তিনবার করে ধুলেন। অতঃপর বললেন, এভাবেই অজু করতে হয়। যে ব্যক্তি এর চেয়ে বেশি বা কম করবে সে তো মন্দ ও জুলুম করল। (আবু দাউদ ১৩৫, হাসান)
বিনা কারণে তিনবারের বেশি ধুলে সেটা অন্তত মাকরুহের তানজিহি হবে। ইমাম নববী বলেন কারাহাতের বিষয়ে ইমামদের ইজমা রয়েছে। এমনকি অপচয়ের কারণে হারামও হতে পারে।
এক হাদীসে এসেছে…
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَرَّ بِسَعْدٍ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ فَقَالَ ” مَا هَذَا السَّرَفُ ” . فَقَالَ أَفِي الْوُضُوءِ إِسْرَافٌ قَالَ ” نَعَمْ وَإِنْ كُنْتَ عَلَى نَهَرٍ جَارٍ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ (রাঃ)-কে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি অজু করছিলেন। তিনি বলেন, এই অপচয় কেন? সা’দ (রাঃ) বলেন, অজুতেও কি অপচয় আছে? তিনি বলেন, হ্যাঁ যদিও তুমি প্রবহমান নদীতে থাকো। (ইবনে মাজাহ ৪২৫, দূর্বল)
সূত্র: ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম ১/১৫১, ফাতাওয়ায়ে শামী ১/৩৩২
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (ফিকহে হানাফী অনুসারে)