প্রশ্ন: মাথা মাসাহের নিয়ম কী?
উত্তর: মাথা মাসাহের দুটি নিয়ম কিতাবে পাওয়া যায়। যে নিয়মটা বেশি প্রচলিত তা মুনয়াতুল মুসল্লি, কাজীখান ইত্যাদিতে এসেছে যে, উভয় হাত ভেজানোর পর কনিষ্ঠা, অনামিকা ও মধ্যমা এই তিনটি আঙ্গুল মাথার অগ্রভাগ থেকে ঘাড় পর্যন্ত টেনে নিবে। এ সময় বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীকে আলাদা রাখবে। তারপর হাতের তালু দিয়ে মাথার দুই পাশ মাসাহ করতে করতে ঘাড়ের দিক থেকে মাথার অগ্রভাগ পর্যন্ত আসবে। তারপর তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে কানের ভেতরে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কানের বাইরে মাসাহ করবে।
ইবনুল হুমাম র. বলেছেন, لا أصلَ له في السنة এই নিয়ম হাদিস সমর্থিত নয়। বরং মাসনূন পদ্ধতি হলো সমগ্র হাতের পাতা (হাতের আঙ্গুল ও তালু) মাথার অগ্রভাগ থেকে এমনভাবে ঘাড় পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে যাতে সমগ্র মাথা বেষ্টন করে নেয়। একইভাবে আবার ঘাড় থেকে মাথার অগ্রভাগ পর্যন্ত হাত টেনে আনবে। কান মাসাহের পদ্ধতি আগেরটার মতই। এই নিয়মকে প্রাধান্য দিয়েছেন আল্লামা ইবনুল হুমাম, যাইলাঈ, ইবনে আবেদীন শামী, তাহতাহাভী প্রমুখ। হাদিসেও এই নিয়মের ইশারা পাওয়া যায়…
আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামকে যেভাবে অজু করতে দেখেছেন তা বর্ণনা করেছেন। সেখানে আছে…
ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ، فَمَسَحَ بِرَأْسِهِ فَأَقْبَلَ بِيَدَيْهِ وَأَدْبَرَ بِهِمَا
অতঃপর তিনি পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন। ও তাঁর মাথা মাসহ করলেন – উভয় হাত সামনে এবং পেছনে নিয়ে। (সহিহ বুখারি ১৯২)
যারা প্রথম পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন, তাদের যুক্তি ছিলো, সমগ্র হাত শুরুতেই ব্যবহার করে ফেললে তা ব্যবহৃত (মুস্তামাল) হয়ে যায়, আর ব্যবহৃত পানি দ্বিতীয়বার ব্যবহার করে ওযু করা যায় না। এর উত্তরে ইবনুল হুমাম র. বলেছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত পানি এক অঙ্গে প্রবাহিত হতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত তা ব্যবহৃত হয় না। আলাদা হওয়ার পর ব্যবহৃত গণ্য হয়। যেমন মুখ ধোয়ার সময় পানি চেহারার উপরের অংশ থেকে গড়িয়ে নিচে পড়ে। হাত ধোয়ার সময় পানি হাতের কবজি থেকে গড়িয়ে কনুই পর্যন্ত আসে।”
প্রশ্ন হতে পারে, যখন মাথা থেকে হাত উঠিয়ে কান মাসহ করতে যাবে তখন তো তা ব্যবহৃত হয়ে যাবে? এর উত্তর হলো, কান কোন আলাদা অঙ্গ নয়, রাসূল সা. বলেছেন الأذنان من الرأس কান মাথারই অন্তর্ভুক্ত। (আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)
উত্তম হলো, সমগ্র মাথা মাসাহ করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র মাথা মাসাহ করতেন।
কান মাসহের দলিল
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অজু দেখিয়েছেন। তাতে আছে…
ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ بَاطِنِهِمَا بِالسَّبَّاحَتَيْنِ وَظَاهِرِهِمَا بِإِبْهَامَيْهِ
তারপর তিনি মাথা ও কান মাসাহ করেন। কানের ভেতর দিক শাহাদাত অঙ্গুলী ও বাহির দিক বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা মাসহ(মাসেহ) করেন। (সুনানে নাসাই ১০২)
সূত্র: ফাতাওয়ায়ে দারুল ১/১৫৮, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/৭, ফাতহুল কাদির ১/২০, হাশিয়ায়ে নুরুল ইজাহ ৭২,
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (ফিকহে হানাফী অনুসারে)