প্রশ্ন: হালালা কি জায়েয?
উত্তর: হালালার সঠিক নিয়ম হলো, পরবর্তী স্বামীকে তালাকের শর্তবিহীনভাবে বিবাহ করা। সহবাসের পর যদি সে স্বেচ্ছায় তালাক দেয় অথবা মারা যায় তাহলে পূর্বের স্বামীর জন্য সে হালাল হয়ে যাবে। এই সুরত জায়েয না হওয়ার কারণ নেই।
কিন্তু যদি তালাক দেওয়ার শর্তে বিবাহ করে তাহলে তা মাকরুহে তাহরীমী; গুনাহের কাজ। আল্লাহ তায়ালা এধরনের লোকদের উপর লানত করেছেন। তবে গুনাহ হলেও নারী তার পূর্ববর্তী স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যাবে।
অবশ্য যদি তালাকের শর্ত না করে, বরং দ্বিতীয় স্বামীর নিকট পুরো বিষয়টি খুলে বলে যে, কীভাবে তালাক হলো? কেন তাদের পুনরায় বিবাহবন্ধনে আসা জরুরি ইত্যাদি। অথবা দ্বিতীয় স্বামী ঘটনা অন্য কোনভাবে আগে থেকেই জানে। এমতাবস্থায় শারীরিক সম্পর্কের পর তাকে তালাক দিয়ে দেয়, জায়েয হবে।
যদি স্ত্রী বিবাহের সময় তালাক গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ে নেয়, এবং শারীরিক সম্পর্কের পর নিজের উপর তালাক গ্রহণ করে, তাও জায়েয হবে।
যদি কেউ রাগবশত বা অজ্ঞতাবশত স্ত্রীকে তালাক দেয়। তারপর বুঝতে পারে যে, এই তালাকের কারণে তার বা স্ত্রীর বা সন্তানদের জীবনে খুব খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে তারা জায়েযের সূরতগুলো অবলম্বন করে হালালা করতে পারে।
এসমস্ত ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী উভয়ে যদি এই বিবাহের বিভিন্ন কল্যাণকর দিক চিন্তা করে বিবাহে রাজি হয়, অন্তরের প্রবৃত্তি পূরণ উদ্দেশ্য না হয়, তাহলে ইনশাল্লাহ গুনাহগার হবে না।
সূত্র: ইমদাদুল মুফতীন ৫৮২-৫৮৫
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (ফিকহে হানাফী অনুসারে)