প্রশ্ন: একটি একান্নবর্তী পরিবারে আমার বিয়ে হয়েছে। দেবর ভাসুর ও ননদ সহ পরিবারের সদস্যসংখ্যা সাতজন। সবাই একই ঘরে থাকে। এতে আমার পর্দার সমস্যা হয়। আমার একটি সন্তান হয়েছে। আমি চাই সে একটি সুস্থ-সুন্দর পরিবেশে বড় হোক, যা এ বাসায় থাকলে সম্ভব নয়। আমার স্বামীকে বলেছি আলাদা বাসা নিতে। সে বলেছে আমরা আলাদা হয়ে গেলে বাবা মা কষ্ট পাবে। তোমার জন্য আমি বাবা-মাকে কষ্ট দিতে পারি না। এতে আমাদের গুনাহ হবে। জানতে চাই আমার স্বামীর কথা কি ঠিক? পৃথক হয়ে গেলে গুনাহ হবে?
উত্তর: স্ত্রীর জন্য আলাদা বাসস্থানের ব্যবস্থা করা স্বামীর উপর ওয়াজিব। যাতে সে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে প্রাইভেসি সংরক্ষণ করতে পারে এবং পরিপূর্ণ পর্দা পালন করতে পারে। অবশ্য স্ত্রী যদি এ দাবি ছেড়ে দেয়, তাহলে একান্নবর্তী পরিবারে থাকলেও সমস্যা নেই। যতদিন স্ত্রী পুনরায় দাবি না করে।
ফুকাহায়ে কিরাম লিখেছেন, স্ত্রী যদি পৃথক হওয়ার কথা লজ্জায় বলতে না পারে এবং ইশারা-ইঙ্গিতে তা প্রকাশ পায় তবু স্বামীকে তার জন্য আলাদা বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
বর্তমান যুগে শশুর শাশুড়ি ও ননদদের সাথে স্ত্রীদের ঝগড়া-বিবাদ অহরহ ঘটছে। যদি কোনো যৌথ পরিবারে এ বিষয়টি বারংবার ঘটতে থাকে তাহলে তাদের জন্য পৃথক হয়ে যাওয়াই উত্তম।
আপনার স্বামীকে বলুন তার মাতা পিতাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে। তারপরও যদি তারা আলাদা হওয়ার অনুমোদন না দেয় তবু সে পৃথক হয়ে যেতে পারবে। এজন্য সে গুনাহগার হবে না।
উল্লেখ্য, এক বাড়ির ভেতরও আলাদা বাসস্থান হতে পারে । এমনকি এক ঘরে একাধিক কামরা তৈরি করেও আলাদা বাসস্থান সম্ভব। অতএব স্বামী বাড়ি ছেড়ে দূরে যেতে বাধ্য নয়।
সূত্র:: সূরাহ ত্বলাক ১/ সূরাহ নিসা ১৯/ বাদায়িউস সানায়ি ৪/১০, সিয়ায়া ১১০/ শারহুল মুহাজ্জাব ২৫৯/
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (হানাফি ফিকহ অনুসারে)