প্রশ্ন: বাচ্চাদের মসজিদে আনার বিধান জানতে চাই
উত্তর: বাচ্চাদের মসজিদে আনা কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে বৈধতা বা অবৈধতার ফতোয়া দেওয়া যায় না।
এক: বাচ্চা যদি একেবারে ছোট হয় যে পাক-নাপাক, পরিছন্নতা-নোংরামো, মসজিদ – গাইরে মসজিদের মধ্যে কোন ধরনের পার্থক্য করতে না পারে এবং তার দ্বারা মসজিদ অপবিত্র হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এরকম বাচ্চাদেরকে মসজিদে আনা যাবে না।
এ ধরনের বাচ্চা সম্পর্কে হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে
جنبوا مساجدكم صبيانكم، ومجانينكم
“তোমরা পাগল ও ছোট বাচ্চাদের মসজিদ থেকে দূরে রাখ” (ইবনে মাজাহ, ১/২৪৭)
দুই: যেসব বাচ্চা করিবুল বুলুগ (বালেগ হওয়ার নিকটবর্তী) তাদেরকে মসজিদে আনা জরুরি।
তিন: এই দুই শ্রেণীর বাচ্চা ব্যতীত অন্যান্য বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হুকুম হলো যদি আশংকা হয় তারা চিৎকার চেঁচামেচি করে মুসল্লিদের নামাজে ব্যাঘাত ঘটাবে অথবা মসজিদের ভাবগাম্ভীর্য বিনষ্ট করবে তাহলে তাদের আনা মাকরুহ হবে। কিন্তু যেসব বাচ্চাদের সম্পর্কে জানা আছে যে, তারা মসজিদের সম্মান ও ভাবগাম্ভীর্য রক্ষার শিক্ষা পেয়েছে এবং চিৎকার চেঁচামেচি করে মুসল্লিদের নামাজে ব্যাঘাত ঘটাবে না তাদের মসজিদে আনতে কোন সমস্যা নেই।
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাজ পড়তেন তখন হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পিঠের উপরে চড়তেন।
বয়সের দিকটি বিবেচনায় নিলে সাধারণত ৭ বছর বয়সে বাচ্চারা মসজিদে আসার উপযুক্ত হয়ে যায়, যদি পারিবারিক শিক্ষা থাকে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৭ বছর বয়স থেকে নামাজের হুকুম দিতে বলেছেন। (আর ফরজ নামাজ তো গভীরভাবে মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত।) এ থেকে বোঝা যায় ৭ বছর বয়সে সন্তানকে মসজিদে আনা উচিত।
অন্য আরেকটি মাসয়ালা দ্বারাও এ বিষয়টি জোরালো হয় – ফুক্বাহায়ে কেরাম লিখেছেন, স্বামী স্ত্রী তালাক হয়ে যাওয়ার পর সন্তান ৭ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকবে। ৭ বছর বয়সের পর পিতা লালন-পালনের হকদার হবে। কেননা ৭ বছর হওয়ার পর বাচ্চারা নিজে নিজে খেতে-পরতে শিখে যায় এবং নিজে নিজে ইস্তিঞ্জা (পবিত্রতা হাসিল) করতে পারে।
আসলে এ বিষয়টি পারিবারিক শিক্ষার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যদি পারিবারিকভাবে মসজিদের আদব সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয় তাহলে অল্প বয়সের বাচ্চারাও বুঝতে পারে মসজিদে এসে কোনটা করা যাবে আর কোনটা করা যাবে না। আর যদি পারিবারিক শিক্ষা না থাকে তাহলে বয়সে বড় হওয়ার পরও তাদের দ্বারা মসজিদের বেহুরমতির আশঙ্কা থাকে।
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (হানাফি ফিকহ অনুসারে)