প্রশ্ন: কুরবানীর চামড়া কি মাদ্রাসায় দেওয়া যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ দেওয়া যাবে। মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল / দায়িত্বশীল আপনার উকিল হিসেবে তা গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে উত্তম নিয়ম তো এই যে, প্রিন্সিপাল / দায়িত্বশীল ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে যাদের প্রয়োজন তাদেরকে চামড়া দিবে। তারপর ছাত্ররা প্রিন্সিপাল বা কর্তৃপক্ষকে এটি বিক্রি করার জন্য উকিল বানাবে। তারপর বিক্রির টাকা পুনরায় ছাত্র-শিক্ষদের দিয়ে দিবে। অথবা ছাত্রদের মাদ্রাসার খানার টাকা ইত্যাদি কেটে রাখবে। শিক্ষকদের হাদিয়া দিবে (অজিফা নয়)। এই নিয়মে চামড়া বিক্রির জায়েয নাজায়েযের ব্যাপারে ইমামদের মতভেদ থেকে বেঁচে থাকা যাবে।
তবে এই নিয়ম কঠিন হলে চামড়া সংগ্রহের পর মাদ্রাসার দায়িত্বশীল / প্রিন্সিপাল চামড়া বিক্রি করে টাকা যাকাতের খাতে খরচ করবে। অর্থাৎ গরীব ছাত্র শিক্ষকদের দিবে। এক্ষেত্রে ওই ছাত্রদের মাদ্রাসার প্রদেয় টাকা পরিশোধ করতে পারবে, গরীব শিক্ষকদের সাহায্য করতে পারবে। কিন্তু শিক্ষকদের অজিফা দিতে পারবে না।
বর্তমান প্রচলনের প্রতি লক্ষ্য করে বলা যায়, যদি কোন মাদ্রাসা চামড়ার টাকা শারঈ পদ্ধতীতে খরচ করে না বলে নিশ্চিতভাবে জানা যায় তাহলে সে মাদ্রাসায় চামড়া দেয়া যাবে না।
সূত্র: ফাতহুল কাদির ২/২৬৭
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (হানাফি ফিকহ অনুসারে)
এই দূর্বল লেখকের ব্যক্তিগত মত হলো, কুরবানীদাতা কাউকে উকিল না বানিয়ে চামড়া সরাসরি মাদ্রাসায় দিতে পারবে। কেননা চামড়া বিক্রির আগ পর্যন্ত তা নফল সদাকার হুকুমে, আর নফল সদাকার ক্ষেত্রে তামলিকুশ শাখস শর্ত নয়। অতএব তা ব্যক্তিকে না দিয়ে প্রতিষ্ঠানকেও দিতে পারে।