প্রশ্ন: বর্তমানে কিছু ব্যবসায়ী অত্যন্ত বিলাসিতার সাথে পশু লালন-পালন করে বা এর দাবি করে। এবং সেগুলো নানাভাবে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসে। এবং অস্বাভাবিক মূল্য হাঁকায়। এ ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?
উত্তর: কুরবানী হতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ; যদি লোকদেখানোর জন্য হয় তাহলে যত বড় গরুই হক কুরবানী সহিহ হবে না। বরং গুনাহগার হবে।
সূরা হজ্জে এসেছে (৩৭)
لَن يَنَالَ ٱللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ ٱلتَّقْوَىٰ مِنكُمْۚ
আল্লাহ্র কাছে পৌঁছায় না সেগুলোর গোশত এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।
কুরবানীর গরু নিয়ে ইদানিং যা শুরু হয়েছে তা মানুষের ইখলাসকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই এটি পরিত্যাজ্য।
অবশ্য সুন্দর, মোটাতাজা পশু কোরবানির জন্য অধিক টাকা খরচ করা উত্তম কাজ। ফুক্বাহায়ে কেরাম লিখেছেন, উত্তম হল- কুরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট, অধিক গোশত সম্পন্ন, নিখুঁত ও দেখতে সুন্দর হওয়া। এ কারণেই অন্ধ, খোঁড়া, অত্যধিক রুগ্ন পশু দিয়ে কুরবানী সহিহ হয় না।
আবুল আসওয়াদ আস সুলামী তার পিতা থেকে, এবং তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে,
كنت سابع سبعة مع رسول الله – صلى الله عليه وآله وسلم – في سفره فأدركنا الأضحى فأمرنا رسول الله – صلى الله عليه وآله وسلم – فجمع كل رجل منا درهما فاشترينا أضحية بسبعة دراهم ، وقلنا : يا رسول الله ، لقد غلينا بها ، فقال : ” إن أفضل الضحايا أغلاها وأسمنها
আমরা সাতজন রাসুল সা. এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। এর মধ্যেই ঈদুল আজহা চলে আসে। রাসুল সা. আমাদেরকে কুরবানীর আদেশ দিলেন। আমাদের মধ্যে প্রত্যেকে এক দিরহাম করে দিল। মোট সাত দিরহাম দিয়ে একটি পশু কিনলাম। আমরা বললাম ইয়া রাসুল আল্লাহ! আমাদের পশুটির দাম বেশি পড়েছে। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ কুরবানীর পশু হলো যার মূল্য অধিক এবং মোটাতাজা। (মুস্তাদরাকে হাকিম ৭৬৩৫)
আয়েশা রা. ও আবু হুরাইরা রা. থেকে সহিহ সূত্রে ইবনে মাজাহ-তে (৩১২২) এসেছে
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ اشْتَرَى كَبْشَيْنِ عَظِيمَيْنِ سَمِينَيْنِ أَقْرَنَيْنِ أَمْلَحَيْنِ مَوْجُوءَيْنِ
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কুরবানি দিতে ইচ্ছা করলেন তখন দুটো দুম্বা ক্রয় করলেন। যা ছিল বড়, হৃষ্টপুষ্ট, শিং ওয়ালা, সাদা-কালো বর্ণের এবং খাসি।
তবে অধিক খরচের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়িও করা যাবে না।
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (ফিকহে হানাফী অনুসারে)