প্রশ্ন : রাসুল সা. এর নামে কুরবানী করা জায়েয আছে কি? একজন আলেম বলেছেন ‘উম্মতের প্রতিটি নেক কাজের সওয়াবের অংশ রাসূল সা. এমনিতেই পেয়ে থাকেন। সুতরাং তার নামে আলাদা কোরবানীর প্রয়োজন নেই।’
উত্তর: কুরবানী শুধু আল্লাহর নামে করা যায়, অন্য কারো নামে করা শিরক। সুতরাং বলা উচিত ছিল ‘রাসুল সা. এর পক্ষ থেকে কুরবানী করা যাবে কিনা।’ প্রশ্নের উত্তর হলো, রাসুল সা. এর পক্ষ থেকে কুরবানী করা বৈধ। এক্ষেত্রে রাসূল সা. এর প্রয়োজন আছে কিনা তা মুখ্য বিষয় নয়, বরং উম্মতের প্রয়োজন লক্ষ্য করা উচিত।
একই যুক্তিতে কেউ বলতে পারে আল্লাহ তাআলারও কুরবানী প্রয়োজন নেই। কেননা তার কাছে গোশত, হাড্ডি, রক্ত কিছুই পৌঁছে না। কিন্তু এবাদত তো আসলে বান্দার উপকারের জন্য।
রাসূল সা. উম্মতের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছেন। উম্মত তার পক্ষ থেকে কুরবানী করা কৃতজ্ঞতার দাবি। এতে উম্মতেরই বেশি লাভ।
এছাড়া স্বয়ং রাসূল সা. কর্তৃক তার পক্ষ থেকে কুরবানীর নির্দেশনার ব্যাপারে বর্ণনা পাওয়া যায়।
হানাশ থেকে, আবু দাউদের (২৭৯০) বর্ণনায় এসেছে
عَنْ حَنَشٍ، قَالَ: رَأَيْتُ عَلِيًّا يُضَحِّي بِكَبْشَيْنِ فَقُلْتُ لَهُ: مَا هَذَا؟ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَوْصَانِي أَنْ أُضَحِّيَ عَنْهُ فَأَنَا أُضَحِّي عَنْهُ
‘আমি আলী রা.-কে দেখেছি, তিনি দু’টি মেষ কুরবানী করলেন। আমি তাকে বললাম, এটি কি? (আপনার উপর তো একটি কুরবানী আবশ্যক ছিল, কিন্তু আপনি দু’টি করলেন কেন?) তিনি বললেন, রাসূল ﷺ আমাকে অসিয়ত করেছেন তার পক্ষ থেকে কুরবানী করার জন্য। এ কারণে আমি তার পক্ষ থেকে কুরবানী করছি।
কেউ কেউ হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (হানাফি ফিকহ অনুসারে)