প্রশ্ন : শুনেছি, কুরবানীর শরীকদের মধ্যে কেউ হারাম অর্থ দিলে সবার কুরবানী বাতিল হয়ে যায়। এ বিষয়ে আমার প্রশ্ন হল, আমি যে দেশে বসবাস করি সেখানে নিজে পছন্দ করে কুরবানীর সুযোগ খুব একটা নেই। এখানে অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে কুরবানী করতে হয়। আমাদের কাজ থাকে কুরবানীর আগে অর্থ দিয়ে আসা এবং কুরবানীর পর গোশত নিয়ে আসা। শরিকদের উপার্জন হালাল নাকি হারাম এবং শরিক কারা এ ব্যাপারে জানার কোনো সুযোগ নেই। এমতাবস্থায় আমাদের কুরবানীর হুকুম কী হবে?
উত্তর: মুসলমানদের জন্য নির্দেশনা হল, তাঁরা অপর মুসলমান ভাই সম্পর্কে সুধারণা রাখবে। যেহেতু একজন মুসলমানের ঈমানের দাবী হল সে হালালভাবে উপার্জন করবে, অন্ততপক্ষে কুরবানীতে হালাল টাকা দিবে। তাই সাধারণভাবে ধরে নিতে হবে যে, শরিকগণ কুরবানীর জন্য হালাল অর্থ দিচ্ছে। অতএব অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে আপনি নিশ্চিন্তে কোরবানি দিতে পারেন। কিন্তু যদি আপনি জানতে পারেন যে আপনার সাথে এমন কাউকে শরিক করা হয়েছে যার পূর্ণ অথবা অধিকাংশ উপার্জন হারাম তাহলে আপনি সেখান থেকে বেরিয়ে এসে অন্য কোন অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনো পন্থায় কুরবানী করার চেষ্টা করবেন।
কুরবানীর দায়িত্বগ্রহণকারী অর্গানাইজেশনের জন্য আবশ্যক হলো, তারা চুক্তির সময় এমন শর্ত রাখবে যাতে হারাম উপার্জনকারী ব্যক্তিগণ সেখানে অংশগ্রহণ করতে না পারে, কেননা তাদের কারণে অন্যদের কুরবানী নষ্ট হবে।
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (ফিকহে হানাফী অনুসারে)