কুরবানীর পশুর কিছু দাঁত ভাঙ্গা থাকলে হুকুম

প্রশ্ন : কুরবানীর পশুর দু’একটা দাঁত ভাঙ্গা থাকলে কুরবানী সহিহ হবে কিনা? 

উত্তর: যদি কুরবানীর পশুর এই পরিমাণ দাঁত ঠিক থাকে যার দ্বারা সে খেতে পারে তাহলে কুরবানী সহিহ হবে, এটা ইমাম আবু হানিফা রহি.র মত। এই মতকে সহিহ বলা হয়েছে ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ও বাদাইউস সানায়ীতে। তবে ইমাম আবু ইউসুফ রহি.র মতে যদি পশুর অধিকাংশ দাঁত ঠিক থাকে তাহলে কুরবানী দেওয়া যাবে। ইবনে আবেদীন শামী রহি. এর মতে এটা অধিক বিশুদ্ধ মত।

এক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা রহি.র মত প্রাধান্য পাবে। সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত অবস্থায় দু’একটা দাঁত ভাঙ্গার কারণে কুরবানী করতে কোন সমস্যা হবে না।

উবাইদ (রহঃ) বলেন,
أَكْرَهُ أَنْ يَكُونَ فِي السِّنِّ نَقْصٌ. قَالَ: مَا كَرِهْتَ فَدَعْهُ وَلَا تُحَرِّمْهُ عَلَى أَحَدٍ
আমি বলি, দাঁতে কোনো দোষ থাকাও আমি (কুরবানীর ক্ষেত্রে) অপছন্দ করি। বারা বিন আযিব (রাঃ) বলেন, তুমি যা অপছন্দ করো তা বর্জন করবে, তবে অন্যের জন্য তা নিষিদ্ধ করবে না।

ইয়াযিদ মিসরী বলেন,
قَالَ: أَتَيْتُ عُتْبَةَ بْنَ عَبْدٍ السُّلَمِيَّ فَقُلْتُ: يَا أَبَا الْوَلِيدِ، إِنِّي خَرَجْتُ أَلْتَمِسُ الضَّحَايَا فَلَمْ أَجِدْ شَيْئًا يُعْجِبُنِي غَيْرَ ثَرْمَاءَ فَكَرِهْتُهَا فَمَا تَقُولُ؟ قَالَ: أَفَلَا جِئْتَنِي بِهَا. قُلْتُ: سُبْحَانَ اللَّهِ تَجُوزُ عَنْكَ وَلَا تَجُوزُ عَنِّي. قَالَ: نَعَمْ، إِنَّكَ تَشُكُّ وَلَا أَشُكُّ، إِنَّمَا ” نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ المُصْفَرَّةِ، وَالْمُسْتَأْصَلَةِ، وَالْبَخْقَاءِ وَالْمُشَيَّعَةِ، وَكِسَرَا
আমি ’উতবাহ ইবনু আবদ আস-সুলামীর নিকট এসে বলি, হে ওয়ালীদের পিতা! আমি কুরবানীর পশুর খোঁজে বের হই, কিন্তু কোনো পশুই পছন্দ হয়নি। একটি বকরী পছন্দ হয়েছিল, তার একটি দাঁত না থাকায়, সেটাও বাদ দিয়েছি। এখন এ বিষয়ে আপনি আমাকে পরামর্শ দিন। ’উতবাহ বলেন, তুমি আমার কাছে সেটা নিয়ে আসনি কেন? আমি বলি, সুবহানাল্লাহ! দাঁতপড়া পশু কুরবানী আপনার জন্য বৈধ, অথচ আমার জন্য বৈধ নয়! তিনি বললেন, হ্যাঁ। তুমি সন্দিহান হয়েছো কিন্তু আমি সন্দিহান হইনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কানকাটা, শিংবিহীন, অন্ধ, দুর্বল এবং পা ভাঙ্গা পশু কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ ২৮০৩, দূর্বল)

তাওস বলেন, ফোকলা দাঁতের পশু দ্বারা কুরবানী সহীহ।

সূত্র: ফাতাওয়া শামি ৬/৩২৪, ফাতাওয়া আলমগীরী ৫/২৯৭, ২৯৮, কাজীখান ৩/২৪০, বাদাঈ ৫/৮৫

উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (ফিকহে হানাফী অনুসারে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *