প্রশ্ন: কুরবানির গোশত কি তিন ভাগ করা জরুরি? যদি জরুরি হয় বন্টনের ক্ষেত্রে কমবেশ হলে কোন সমস্যা হবে কি? দলিলসহ জানাবেন।
উত্তর: কুরবানীর গোশত ৩ ভাগ করা মুস্তাহাব, জরুরী নয়।
সূরা হজ্জের ২৮ নং আয়াতে এসেছে
فَکُلُوۡا مِنۡہَا وَاَطۡعِمُوا الۡبَآئِسَ الۡفَقِیۡرَ ۫
অর্থঃ তারপর যেন তোমরা তা থেকে খেতে পরো এবং দুঃস্থ ও নিঃস্বকে খাওয়াতে পারো।
সূরা হজ্জের ৩৬ নং আয়াতে এসেছে
فَکُلُوۡا مِنۡہَا وَاَطۡعِمُوا الۡقَانِعَ وَالۡمُعۡتَرَّ
অর্থঃ তোমরা খাও, এবং খাওয়াও তুষ্ট-দুঃস্থকে ও ভিক্ষুককে।
সুনানে তিরমিজিতে (১৫১৬) সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে
كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُومِ الأَضَاحِي فَوْقَ ثَلاَثٍ لِيَتَّسِعَ ذُو الطَّوْلِ عَلَى مَنْ لاَ طَوْلَ لَهُ فَكُلُوا مَا بَدَا لَكُمْ وَأَطْعِمُوا وَادَّخِرُوا
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে তিন দিনের পর কুরবানীর গোশত খেতে নিষেধ করেছিলাম যেন স্বচ্ছল ব্যক্তিরা অসমর্থ ব্যক্তিদের উদারভাবে তা দিতে পারে। এখন তোমরা যা ইচ্ছা খাও। অন্যকেও খাওয়াও এবং সঞ্চয়ও করে রাখতে পার। ‘
আর ইবনে উমর রা. ৩ ভাগ করতে বলতেন। যেমন আল মুগনীতে (৯/৩৫৫) এসেছে
وعن ابن عمر قال : الضحايا والهدايا ثلث لك ، وثلث
لأهلك ، وثلث للمساكين
ইবনে ওমর রা. বলেন, কুরবানী এবং হাদীর এক ভাগ তোমার জন্য, এক ভাগ তোমার পরিবারের জন্য, আর এক ভাগ মিসকিনদের জন্য।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুরবানী জন্তু সম্পর্কে বলেন, তিনি এক ভাগ পরিবারকে খাওয়াতেন, আরেক ভাগ প্রতিবেশী দরিদ্রদের দিতেন, আরেক ভাগ ভিক্ষুকদের দিতেন।
عن ابن عباس، في صفة أضحية النبي – صلى الله عليه وسلم – قال: يطعم أهل بيته الثلث، ويطعم فقراء جيرانه الثلث، ويتصدق على السؤال
(আল ওয়াজায়েফের উদ্ধৃতিতে মিরআতুল মাফাতিহ ৫/২৪৭, হাসান)
ইবনে মাসউদ রা. কুরবানীর গোশত তিন ভাগ করতেন। (সূত্র: আল আসার লি আবি ইউসূফ ১২৬)
যদি কুরবানীদাতার পরিবারের প্রয়োজন বেশি থাকে তাহলে নিজের ভাগে বেশি রাখতে পারে, যদি আত্মীয়ের সংখ্যা বেশি হয় তাহলে আত্মীয়দের ভাগে বেশি রাখতে পারে, অথবা কোথাও ফকির-মিসকিন না থাকলে সম্পূর্ণটাই নিজেরা রেখে দিতে পারে।
যদি নিজেদের কোনো প্রয়োজন না থাকে তাহলে সম্পূর্ণটাই বন্টন করে দিতে পারে।
তবে কুরবানির গোশত খাওয়ার জন্য কুরবানি করলে সহিহ হবে না।
সূত্র: বাদায়িউস সানায়ে ৫/৮১
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (হানাফি ফিকহ অনুসারে)