প্রশ্ন: মৃত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কুরবানী করা কি জায়েজ আছে?
উত্তর: সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য প্রথমে নিজের কুরবানী দেওয়া ওয়াজিব। নিজের ওয়াজিব কুরবানী বাদ দিয়ে অন্যের জন্য নফল কুরবানী করা যাবে না। তবে নিজের ওয়াজিব কুরবানী ব্যতীত যদি কেউ ঈসালে সাওয়াব হিসেবে নিজের মৃত পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন ও অন্যান্য মানুষের জন্য নফল কুরবানী করে তাহলে তা উত্তম।
যদি কারো উপর কুরবানী ওয়াজিব না হয় কিন্তু সে নফল কুরবানী করে ঈসালে সওয়াব করে তাহলেও জায়েজ হবে। ঈসালে সওয়াবের ক্ষেত্রে উত্তম হলো সমগ্র উম্মতকে অন্তর্ভুক্ত করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ উম্মতের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছেন।
আয়েশা রা. ও আবু হুরাইরা রা. থেকে সহিহ সূত্রে ইবনে মাজাহ-তে (২৫৩১) এসেছে
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ اشْتَرَى كَبْشَيْنِ عَظِيمَيْنِ سَمِينَيْنِ أَقْرَنَيْنِ أَمْلَحَيْنِ مَوْجُوءَيْنِ فَذَبَحَ أَحَدَهُمَا عَنْ أُمَّتِهِ لِمَنْ شَهِدَ لِلَّهِ بِالتَّوْحِيدِ وَشَهِدَ لَهُ بِالْبَلاَغِ وَذَبَحَ الآخَرَ عَنْ مُحَمَّدٍ وَعَنْ آلِ مُحَمَّدٍ ـ صلى الله عليه وسلم
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর ইচ্ছা করলে দু’টি মোটাতাজা, মাংসল, শিংযুক্ত, ধুসর বর্ণের ও ছিন্নমুষ্ক মেষ ক্রয় করতেন। অতঃপর এর একটি নিজ উম্মাতের যারা আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেয় এবং তাঁর নবুয়াতের সাক্ষ্য দেয় তাদের পক্ষ থেকে এবং অপরটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে কুরবানী করতেন।
উল্লেখ্য, সমগ্র উম্মতের মধ্যে মৃত ব্যক্তিরাও শামিল।
হানাশ বলেন,
رَأَيْتُ عَلِيًّا يُضَحِّي بِكَبْشَيْنِ فَقُلْتُ لَهُ: مَا هَذَا؟ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْصَانِي أَنْ أُضَحِّيَ عَنْهُ فَأَنَا أُضَحِّي عَنْهُ
আমি ’আলী (রাঃ)-কে দু’টি দুম্বা কুরবানী করতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ব্যাপার কি (দু’টি কেন)? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অসিয়ত করেছেন, আমি যেন তাঁর পক্ষ থেকে কুরবানী করি। তাই তাঁর পক্ষ থেকেও কুরবানী করছি। (আবু দাউদ ২৭৯০, শাইখ আলবানী দূর্বল বলেছেন, কেননা রাবী আবুল হাসনা মাজহুল। কিন্তু ইয়াহইয়া বিন মাঈন এক জায়গায় বলেছেন, আবুল হাসনা থেকে ১২ জন সিকা রাবী রেওয়ায়াত করেছেন)
যে কোনো ভালো কাজ ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে করা যায়।
আয়েশা রা. থেকে বুখারি (১৩৩৮) ও মুসলিমের (১০৪) বর্ণনায় এসেছে
أَنَّ رَجُلاً قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَأَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ فَهَلْ لَهَا أَجْرٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ
‘এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন, কোনো অসিয়ত করে যেতে পারেননি। আমার মনে হয় তিনি কোনো কথা বলতে পারলে সদকার অসিয়ত করতেন। আমি যদি এখন তার পক্ষ থেকে সদকা করি তাতে কি তার সওয়াব হবে ? তিনি উত্তর দিলেন: হ্যাঁ।’
(সূত্র: ফাতাওয়া শামি ২/৫৯৫ )
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (হানাফি ফিকহ অনুসারে)