প্রশ্ন : একজন ব্যক্তির উপর কখন কুরবানী ওয়াজিব হয় অনুগ্রহপূর্বক জানাবেন?
উত্তর: কুরবানীর নেসাব সাদাকাতুল ফিতরের নেসাবের মতই।
১২ই জিলহজ সূর্য ডোবার আগে যদি কোন বুদ্ধিমান, বালেগ, মুকিম, পুরুষ অথবা নারীর মালিকানায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত ৬১২.৩৬০ বা .৩৫০ গ্রাম রূপা, কিংবা সমপরিমাণ মূল্যের জিনিসপত্র, অথবা জিনিসপত্র ও রূপার দাম মিলিয়ে ৬১২ গ্রাম রূপার মূল্যে পৌঁছে যায়, বা ৮৭.৪৮০ গ্রাম শুধু স্বর্ণ থাকে, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।
ভরির হিশেবে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা ও সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ। এক্ষেত্রে ১ ভরিতে ১১.৬৬৪ থেকে. ৬৬৫ গ্রাম স্বর্ণ/রূপা থাকতে হবে।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলতে বোঝায় যা সাধারণ জীবনধারণের জন্য প্রয়োজন হয়, যেমন খাদ্য, বসবাসের ঘর, ঔষধ, প্রয়োজনীয় পোশাক ইত্যাদি। কিন্তু অনেকের একাধিক বাড়ি থাকে, অনেকের প্রচুর পোশাক থাকে, যার কোনো প্রয়োজন থাকে না।
ভবিষ্যতের জন্য রাখা ঘর উঠানোর টাকা, বিবাহের টাকা ইত্যাদিও শারঈ পরিভাষায় প্রয়োজনীয় গণ্য হবে না।
ঘরের ফার্নিচার (অতিরিক্ত না হলে), চলাচলের মোটরসাইকেল বা গাড়ি প্রয়োজনীয়। তবে সাজসজ্জার আসবাবপত্র প্রয়োজনীয় নয়।
অনেকে একাধিক মোটরসাইকেল বা গাড়ি রাখে, অথচ তার সেগুলো দরকার থাকে না, সেগুলো অপ্রয়োজনীয়ই।
পেশাজীবীদের আয়ের যন্ত্র, যেমন কৃষকের লাঙ্গল, কাঁচি, কাঠুরের কুড়াল, এছাড়া অটোরিকশা ইত্যাদি প্রয়োজনীয়।
রাসূল সা. বলেছেন
مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ وَلَمْ يُضَحِّ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مُصَلاَّنَا
যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে। (ইবনে মাজাহ ৩১২৩, হাসান)
সূত্র: ফাতাওয়া আলমগীরী ১/৯১
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (ফিকহে হানাফী অনুসারে)