প্রশ্ন: আমার ও আমার স্ত্রীর নিকট আলাদাভাবে নেসাব রয়েছে, আমরা যদি পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে ১টি কুরবানী করি তাহলেই যথেষ্ট হবে নাকি আমাকে ও আমার স্ত্রীকে আলাদা কুরবানী করতে হবে? কোনো কোনো আলেমকে বলতে শোনা যায় যে, পরিবারের পক্ষ থেকে ১টি কুরবানী দেওয়াই যথেষ্ট!
উত্তর: আপনার ও আপনার স্ত্রীর উপর আলাদা কুরবানী আবশ্যক হবে, কেননা কোনো বুদ্ধিমান, বালেগ, মুসলমান যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তার ওপর আলাদা কুরবানী আবশ্যক হয়। পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে ১টি কুরবানী দেওয়া যথেষ্ট হয় না।
ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমাদে (৮২৭৩) হাসান সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। রাসূল সা. বলেন…
من وجد سعة ولم يضح فلا يقربن مصلانا
‘যে ব্যক্তি সামর্থ থাকা সত্ত্বেও কুরবানী না করে সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।’
এই হাদিসে যার সামর্থ্য রয়েছে তাকেই কুরবানী করতে বলা হয়েছে।
যেসব হাদিসে এক কুরবানী পুরা পরিবারের পক্ষ থেকে দেয়ার কথা বলা হয়েছে সেগুলোতে সওয়াবের নিয়তের ক্ষেত্রে পুরো পরিবারকে শামিল করা উদ্দেশ্য, সবার ওয়াজিব কুরবানী এক পশু দ্বারা আদায় করা উদ্দেশ্য নয়।
ওই হাদীসগুলোতে এই ব্যাখ্যা গ্রহণ না করলে তিনটি সমস্যা।
এক: পশুতে ৭ ভাগের চেয়েও বেশি শরিক হওয়া।
কোন কোন পরিবারে সাতজনের বেশি সামর্থ্যবান থাকে। তারা যদি পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মাত্র কুরবানী দেয় তাহলে তা ওই হাদিসের বিরুদ্ধে যাবে যাতে ৭ ভাগের কথা আছে
যেমন সহিহ মুসলিমের (৩০৭৬) হাদিস
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ نَحَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ الْبَدَنَةَ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদাইবিয়ার বছর আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে প্রতি সাতজনের পক্ষ থেকে একটি উট এবং প্রতি সাতজনের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছি।
দুই: আর যদি ছাগল, ভেড়া, দুম্বা কুরবানী দেয় তাহলে একইসাথে তা ইজমারও বিপরীত। কেননা ইজমা হলো, ছাগলে একের অধিক ব্যক্তি কুরবানী করতে পারে না।
তিন: উম্মতের সকলের ওয়াজিব কুরবানী রহিত হয়ে যাওয়া।
সুনানে তিরমিজিত (১৫০৫) রাসুল সা. এর কুরবানী সম্পর্কে এসেছে
أَنَّهُ ضَحَّى بِكَبْشٍ، فَقَالَ: هَذَا عَمَّنْ لَمْ يُضَحِّ مِنْ أُمَّتِي
রাসুল সা. দুটি ভেড়া কুরবানী করলেন। অতঃপর বললেন এটি আমার উম্মতের মধ্য থেকে যারা কুরবানী দেয়নি – তাদের পক্ষ থেকে
ইবনে মাজাহ-তে (২৫৩১) এসেছে
فذبح أحدهما عن أمته، لمن شهد لله بالتوحيد، وشهد له بالبلاغ، وذبح آخر عن محمد، وعن آل محمد- صلى الله عليه وسلم
‘একটি তিনি তার উম্মতের জন্য কুরবানী করলেন; যারা আল্লাহর একত্ববাদ ও তার রাসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য দিয়েছে, অন্যটি তার নিজের ও পরিবারবর্গের জন্য কুরবানী করেছেন।’
তো রাসুল সা. যে কুরবানীটি পরিবারের পক্ষ থেকে দিয়েছেন তা দ্বারা যদি তার পরিবারের সামর্থ্যবানদের উপর থেকে কুরবানী রহিত হয়ে যায় তাহলে যেটি উম্মতের পক্ষ থেকে দিয়েছেন সেটির মাধ্যমে সমগ্র উম্মতের উপর থেকে কুরবানীর আবশ্যকীয়তা রহিত হয়ে যাওয়ার কথা। অর্থাৎ যত মানুষ দুনিয়াতে ছিল ও আসবে তাদের সবার ওয়াজিব কুরবানী আদায় হয়ে গিয়েছে। অথচ বাস্তবতা এমনটি নয়।
আসলে পরিবারের ক্ষেত্রে যেমন সওয়াবের অংশীদার বানিয়েছেন উম্মতের ক্ষেত্রেও রাসূল সা. সাওয়াবেরই অংশীদার বানিয়েছেন ; ওয়াজিব কুরবানীতে অংশীদার বানাননি।
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (ফিকহে হানাফী অনুসারে)